হেযবুত তওহীদ কী ও কেন? বিভ্রান্তি নিরসন, মূল দর্শন, ইতিহাস ও প্রকৃত সত্য
একটি পূর্ণাঙ্গ ও তথ্যসমৃদ্ধ অনুসন্ধান

বর্তমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যেকোনো বিষয় নিয়ে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া যেমন সহজ, ঠিক তেমনই অসত্য, অসম্পূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার শিকার হওয়াও সমান সহজ। বিশেষ করে যখন কোনো আন্দোলন সমাজে বিদ্যমান অন্যায়, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়, তখন একশ্রেণির কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল সেই আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের অন্যতম একটি গতিশীল অরাজনৈতিক সংস্কারমুখী সামাজিক সংগঠন হল ‘হেযবুত তওহীদ’। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগঠনটি ধর্মের নামে পরিচালিত উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রথাগত মাযহাবি বিভেদের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় বৈচারিক লড়াই চালিয়ে আসছে। তবে দুঃখজনকভাবে কিছু সাময়িকী ও অনলাইন পোর্টালে (যেমন: মাসিক আল-কাউসার, মাসিক আত তাহরীক ) বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার অভাব ও ধারণার বশবর্তী হয়ে হেযবুত তওহীদ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই নিবন্ধের মূল উদ্দেশ্য হল সকল প্রকার আবেগ ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে ঐতিহাসিক দলিল, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা এবং বাস্তব প্রমাণের আলোকে হেযবুত তওহীদের প্রকৃত পরিচয়, আকীদা, দর্শন ও সমাজকল্যাণমূলক অবদান জাতির সামনে তুলে ধরা।
প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী: বংশ পরিচয়, জীবন ও অবদান
অপপ্রচারকারী গোষ্ঠীগুলো প্রায়শই হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী (১১ মার্চ ১৯২৫ – ১৬ জানুয়ারি ২০১২) সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে থাকে। আল-কাউসারের প্রবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি একজন প্রথাগত আলেম ছিলেন না এবং আরবী শিক্ষায় অনগ্রসর ছিলেন। অথচ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তব সত্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ঐতিহ্যবাহী করটিয়া জমিদার পন্নী পরিবার
মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী টাঙ্গাইলের বিশ্ববিখ্যাত করটিয়া জমিদার পরিবারের সন্তান। পন্নী পরিবার বঙ্গীয় উপমহাদেশের শিক্ষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর দাদামহ ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া) ছিলেন বিখ্যাত শিক্ষানুরাগী ও দানবীর, যিনি টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সা’দত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পন্নী পরিবার সর্বদা শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে।
শিক্ষা, আত্মগঠন ও সত্যের অনুসন্ধান
মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী শৈশব থেকেই মুক্তচিন্তা, সততা ও গবেষণাধর্মী মনোভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রথাগত ডিগ্রি সর্বস্ব শিক্ষার চেয়ে বিশ্ব রাজনীতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে বেশি আত্মনিয়োগ করেন। তিনি গভীর মনোযোগ সহকারে কোরআন এবং হাদিসের মৌলিক শিক্ষা অধ্যয়ন করেন। ইসলামকে কেবল কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের সমষ্টি হিসেবে না দেখে, মানবজাতির সর্বাঙ্গীন মুক্তির একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে উপলব্ধি করাই ছিল তাঁর জীবনদর্শনের মূল কথা।
হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট (১৯৯৫)
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন গোটা মুসলিম বিশ্বে ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ, শিয়া-সুন্নি সহ নানা ফেরকাগত মারামারি এবং ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হচ্ছিল, তখন ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়ায় তিনি ‘হেযবুত তওহীদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, বিশ্ব মুসলিমের পতন ও দুর্দশার মূল কারণ হল কোরআনের মূল শিক্ষা তথা ‘তাওহীদ’ থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং প্রথাগত মোল্লাবাদের সৃষ্টি করা।
আল-কাউসারের নিবন্ধের উত্থাপিত অভিযোগসমূহের দফাভিত্তিক জবাব
আল-কাউসারে প্রকাশিত আর্টিকেলে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মূলত কয়েকটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। নিচে সেগুলোর যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হল:
অভিযোগ ১: ‘প্রতিষ্ঠাতা অন্য কোনো আন্দোলনের নীতি চুরি করেছেন বা কাশফ-ইলহামের দাবি করেছেন’
বাস্তব সত্য: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট দাবি। হেযবুত তওহীদ কোনো অলৌকিক স্বপ্ন, কাশফ বা ইলহামের ওপর প্রতিষ্ঠিত আন্দোলন নয়। মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী তাঁর লিখিত বই ও বক্তৃতায় বারবার বলেছেন যে, তাঁর প্রতিটি কথার ভিত্তি হল আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআন এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ। তিনি নিজেকে কখনোই কোনো মহাপুরুষ, নবী বা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করেননি; বরং একজন সাধারণ সত্যপিপাসু মুসলিম হিসেবে কোরআনের চিরন্তন চিরঞ্জীব বাণী মানবজাতির সামনে তুলে ধরেছেন।
অভিযোগ ২: ‘আরবী ও কোরআন-হাদিসের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান না থাকা’
বাস্তব সত্য: ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট পোশাক বা কতিপয় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারীর একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। মহান আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, কোরআনকে সহজ করে অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে (সূরা আল-ক্বামার)। বায়াজীদ খান পন্নী আরবি ভাষার ব্যাকরণগত জটিলতায় আটকে না থেকে কোরআনের মৌলিক অর্থ, উদ্দেশ্য ও জীবনদর্শন উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থাবলী পড়া যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্য সত্য উদঘাটনে যথেষ্ট।
অভিযোগ ৩: ‘সংগঠনের উদ্দেশ্য ও মতাদর্শে অস্পষ্টতা’
বাস্তব সত্য: হেযবুত তওহীদের মতাদর্শ ও লক্ষ্য অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট। আন্দোলনটির মূল উদ্দেশ্য হল তাওহীদের ভিত্তিতে মানবজাতির ঐক্য গড়ে তোলা, সকল প্রকার ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এতে কোনো গোপনীয়তা বা অস্পষ্টতা নেই।
হেযবুত তওহীদের মূল আকীদা, দর্শন ও আদর্শিক ভিত্তি
হেযবুত তওহীদের চিন্তাধারা ও দর্শনের মূল স্তম্ভগুলো নিচে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হল:
১. তাওহীদের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ: তাওহীদ মানে কেবল মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব ও হুকুম মেনে নেওয়া। মানুষের তৈরি কোনো অন্যায্য ব্যবস্থা বা শোষণের কাছে নতি স্বীকার না করাই হল তাওহীদের প্রকৃত রূপ।
২. মানবজাতির ঐক্য: বর্ণ, ধর্ম, জাতি বা প্রথাগত ধর্মীয় ফেরকার বিভেদ ভুলে সকল মানুষকে এক আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে শ্রদ্ধা করা এবং সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলা।
৩. ধর্মীয় ব্যবসায় ও প্রথাগত মোল্লাবাদের বিরোধিতা: ধর্মকে উপার্জনের মাধ্যম বা ক্ষমতার হাতিয়ার বানানো এবং সাধারণ মানুষকে ফতোয়ার ভয় দেখিয়ে শোষণ করার তীব্র বিরোধিতা করে হেযবুত তওহীদ।
৪. সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংস্কার অবস্থান: হেযবুত তওহীদ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সংসদীয় নির্বাচন করা, সরকার গঠন করা বা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা এই আন্দোলনের লক্ষ্য নয়। তাদের লক্ষ্য হল সামাজিক ও চিন্তাভিত্তিক সংস্কার ঘটানো।
৫. উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা
বাংলাদেশে যখন ধর্মের নামে বোমাবাজি, জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছিল, তখন হেযবুত তওহীদ দেশের প্রথম সংগঠন হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রাজপথে ও সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম শুরু করে।
দেশব্যাপী সুধী সমাবেশ, সেমিনার ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী
হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই হাজার হাজার গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, সুধী সমাবেশ, প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিক সম্মেলন এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ জনতা বিপুল সংখ্যায় অংশ নিয়ে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

উগ্রবাদ মোকাবেলা করণীয় প্রসঙ্গে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকালে হেযবুত তওহীদ ঢাকা মহানগরের আয়োজনে “উগ্রবাদ মোকাবেলায় ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা” শীর্ষক সভাটি ছিল জমজমাট ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক। সভায় উগ্রবাদ মোকাবেলায় ইসলামের প্রকৃত ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং উগ্রবাদ রুখতে সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান বক্তারা।
সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমভিত্তিক সচেতনতা
হেযবুত তওহীদ কেবল বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নাটক, ডকু-ড্রামা, গান, সাহিত্য সাময়িকী এবং দৈনিক দেশের পত্র পত্রিকার মাধ্যমে ধর্মের সঠিক ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা তরুণ সমাজকে পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান নেতৃত্ব: হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম ও আধুনিক গতিশীলতা
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর ইন্তেকালের পর হেযবুত তওহীদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তাঁর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আন্দোলনটি এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে।
ডিজিটাল মিডিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার: আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েব পোর্টাল এবং অনলাইন টকশোর মাধ্যমে সঠিক ইসলামি বার্তা কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
নারী ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থান: হেযবুত তওহীদ বিশ্বাস করে যে সমাজের অর্ধেক জনসংখ্যা তথা নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সংগঠনটি হাজার হাজার নারীকে আত্মকর্মসংস্থান, কুটির শিল্প এবং সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করেছে।
উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সেবা মূলক প্রকল্প: সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সমবায় ও উদ্যোক্তা ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বেকারত্ব দূরীকরণে ভুমিকা রাখছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ – Frequently Asked Questions)
প্রশ্ন ১: হেযবুত তওহীদ কি কোনো রাজনৈতিক দল?
উত্তর: না। হেযবুত তওহীদ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সামাজিক সংস্কারমুখী আন্দোলন। নির্বাচন করা বা রাজনৈতিক পদপ্রার্থী হওয়া এদের উদ্দেশ্য নয়।
প্রশ্ন ২: হেযবুত তওহীদ কি নতুন কোনো মাযহাব?
উত্তর: না। হেযবুত তওহীদ প্রথাগত মাযহাব বা ফেরকাগত বিভাজনের ঘোর বিরোধী। তারা কোনো নতুন ফেরকা তৈরি করেনি, বরং সকল বিভেদ ভুলে এক তাওহীদের পতাকাতলে আসার আহ্বান জানায়।
প্রশ্ন ৩: হেযবুত তওহীদের অর্থের উৎস কী?
উত্তর: হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিজেদের হালাল উপার্জনের একটি অংশ স্বেচ্ছায় আন্দোলনের ফান্ডে দান করেন। এছাড়া সংগঠনটির নিজস্ব কিছু অর্থনৈতিক উদ্যোগ রয়েছে। তারা দেশি বা বিদেশি কোনো অনুদানের ওপর নির্ভরশীল নয়।
প্রশ্ন ৪: কেন এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালায়?
উত্তর: যারা ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করে এবং প্রথাগত ফতোয়াবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখে, হেযবুত তওহীদের সত্য ও স্পষ্ট বক্তব্য তাদের স্বার্থে আঘাত হানে। তাই কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্যই এসব অপপ্রচার চালানো হয়।
প্রশ্ন ৫: হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম কি আইনসম্মত?
উত্তর: জি, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস চর্চার অধিকার রয়েছে। হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে তাদের সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, প্রতিটি যুগে যারা সত্য, সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদেরকেই প্রাথমিক পর্যায়ে অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যের কথা বা কোনো কুচক্রী মহলের লেখায় কান না দিয়ে, সরাসরি তাদের রচিত সাহিত্য, বই-পুস্তক এবং মূল বক্তব্যগুলো যাচাই করার জন্য আমরা পাঠকদের অনুরোধ জানাই।



